ভেবলার বাবা ৩,
কুরবানীর গরু!
ভেবলাদের সব আত্মিয়েরা শহরের পূর্ব অংশে থাকে, কিন্তু ভেবলারা শহরের নতুন অংশ তথা পশ্চিম পাশে থাকে ভেবলার পড়ালেখার জন্য! কুরবানীর ঈদ এসেই পড়েছে! প্রতি বছরের মত এবারেও ভেবলার বাবা পুর্ব পাড়াতেই কুরবানী দিবে আত্মীয়দের সাথে! আগে যখন ভেবলারা পূর্ব পাড়ায় থাকত তখন ভেবলার বাবা সবার সাথে একসাথেই হাটে গিয়ে কুরবানির পশু কিনে আনত! পশ্চিম গঞ্জে চলে যাওয়ার পর থেকেও প্রতি বছরই ভেবলার বাবা পূর্ব পাড়ায় এসে সবার সাথে একসাথে হাটে গিয়ে কুরবানীর পশু কিনে আনে! এবারেও ব্যতিক্রম হবে না!
রমজান চাচা, হেমায়েত আঙ্কেল আর রহিম দা তৈরি হয়ে বসে আছে, ভেবলার বাবা এসে পৌছলেই একসাথে হাটে যাবে! রমজান আঙ্কেল এবারে কুরবানি দিবেন না, আর একথা দুদিন আগেই ফোনে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাই উনি সাতেও নেই পাঁচেও নেই!
ভেবলার বাবা বাড়িতে পৌছেই অবাক, আস্ত একটা এঁড়ে গড়ু গেটের পাশে বাধা! ভেবলার বাবা আকাশ থেকে পড়ল তখন, যখন রমজান কাকু বললেন "এটা আমার গরু, আজ সকালেই কিনে এনাছি! চলেন এবার আপনারটা কিনে আপনাকে বুঝিয়ে দিব!"
ঘটনাটি হল কিছুটি এমনঃ ভেবলার বাবা আর ভেবলার এক পিসি অন্য বাড়িতে থাকেন কিন্তু কোরবানি করেন পৈত্রিক বাড়িতেই, আর বাড়িতে উপস্থিত থাকায় কোরবানিএর পশুর দেখাশোনার দায়িত্ব রমজান কাকুর উপরেই পড়ে, আর তাই তিনি এবার এই দায়িত্ব এড়ানোর জন্য আলাদা কুরবানি দিচ্ছেন, তিনি নিজের গরু নিয়ে থাকবেন আর অন্যদের গরু কি হল তা আর তার দেখা লাগবে না!
যা হোক, সেবার কোনও রকম মন খারাপ করেই আল্লাহ্ 'র ভরসায় ভেবলার বাবা তার, রহিম দার আর পিসির গরুটা কিনে আনলেন!
ভেবলার বাবা গরুটিকে বাড়িতে রেখে পশ্চিম গঞ্জে ফিরে গেলেন! রমজান কাকু নিজের গরু নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বিধায় রমজান কাকুর খাশ লোক হেমায়েত আঙ্কেলের উপর দায়িত্ব পড়ল গরু দেখাশোনার! সারাক্ষন ভজ হরি স্টাইলে "সবই পারি" কিংবা "সন্তানের মত গরুটাকে আগলে রখব" ইত্যাদি ডায়লগ মারা হেমায়েত আঙ্কেল এবার আসল চেহারা দেখাতে লাগলেন! সারাদিন গরুটাকে কিচ্ছুটি খেতে দেন নি! পড়ে একটা হাড়িতে গরম ফূটন্ত ভাতের মাড় এনে গরুটির মুখের সামনে এনে দিলে বেচারা অভুক্ত গরুটা খিদার ঠেলায় সেটাতেই মুখ ডুবিয়ে দিলে এক চুমুক, আর এতেই গরুটার নাক-মুখ-জিহ্বা -গলা অবধি পূড়ে গেল!
সেদিন সকাল থেকে হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছে, আর হেমায়েত আঙ্কেল একটা কাঁদা মাখা যায়গায় গরুটাকে বেধে রাখলেন সারা রাতের বৃষ্টি আর কাঁদায় গরুটার জ্বর আর পেট খারাপ হয়ে গেল! আর তার উপর জিহ্বা আর গলায় গরম ভাতের মাড়ের যন্ত্রনায় পরেরদিন ও গরুটা কিচ্ছুটি খেতে পারল না!
তিন দিন পর ঈদ, এই তিন দিন কোনরকম পার হলো হেমায়েত আঙ্কেলের অবহেলায়, রমজান কাকু একটু পর পর ফোন করে ভেবলার বাবাকে, আর বলে "গরুটা এসে দেখতে পারেন না, এটা হয়েছে, ওটা হয়েছে," ইত্যাদি ইত্যাদি! ভেবলার বাবা সেবার খুব অসুস্থ ছিল, তাই ভেবলাও বলছিল এবার ঈদে পূর্ব পাড়ায় না গিয়ে বিশ্রামে থাকতে! তাই ভেবলার বাবা কে কোনও রকম না পেরেই রমজান কাকু আর হেমায়েত আঙ্কেলের উপর ডিপেন্ড করে থাকতে হল, আবার পিসির রিক্যুয়েস্ট, রমজান কাকু সবার থেকে আলাদা হয়ে কুরবানি দিচ্ছে তাই ভেবলার বাবাকে বাধ্য হয়েই থাকতে হবে, আবার অসুস্থতার করনে ওখানে থেকেও গরুটার দেখাশুনা করতে পারছে না!
ঈদের দিন, রমজান কাকুর গরুটা চকচক করছে, আর ভেবলার বাবা আর পিসির গরুটা চেনাই যাচ্ছেনা, হেমায়েত আঙ্কেলের বিশেষ যত্নে মরমর অবস্থা আর রঙ ফেকাশে হয়ে গেছে!
... চলবে ...
-Dr.Aakash
কুরবানীর গরু!
ভেবলাদের সব আত্মিয়েরা শহরের পূর্ব অংশে থাকে, কিন্তু ভেবলারা শহরের নতুন অংশ তথা পশ্চিম পাশে থাকে ভেবলার পড়ালেখার জন্য! কুরবানীর ঈদ এসেই পড়েছে! প্রতি বছরের মত এবারেও ভেবলার বাবা পুর্ব পাড়াতেই কুরবানী দিবে আত্মীয়দের সাথে! আগে যখন ভেবলারা পূর্ব পাড়ায় থাকত তখন ভেবলার বাবা সবার সাথে একসাথেই হাটে গিয়ে কুরবানির পশু কিনে আনত! পশ্চিম গঞ্জে চলে যাওয়ার পর থেকেও প্রতি বছরই ভেবলার বাবা পূর্ব পাড়ায় এসে সবার সাথে একসাথে হাটে গিয়ে কুরবানীর পশু কিনে আনে! এবারেও ব্যতিক্রম হবে না!
রমজান চাচা, হেমায়েত আঙ্কেল আর রহিম দা তৈরি হয়ে বসে আছে, ভেবলার বাবা এসে পৌছলেই একসাথে হাটে যাবে! রমজান আঙ্কেল এবারে কুরবানি দিবেন না, আর একথা দুদিন আগেই ফোনে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাই উনি সাতেও নেই পাঁচেও নেই!
ভেবলার বাবা বাড়িতে পৌছেই অবাক, আস্ত একটা এঁড়ে গড়ু গেটের পাশে বাধা! ভেবলার বাবা আকাশ থেকে পড়ল তখন, যখন রমজান কাকু বললেন "এটা আমার গরু, আজ সকালেই কিনে এনাছি! চলেন এবার আপনারটা কিনে আপনাকে বুঝিয়ে দিব!"
ঘটনাটি হল কিছুটি এমনঃ ভেবলার বাবা আর ভেবলার এক পিসি অন্য বাড়িতে থাকেন কিন্তু কোরবানি করেন পৈত্রিক বাড়িতেই, আর বাড়িতে উপস্থিত থাকায় কোরবানিএর পশুর দেখাশোনার দায়িত্ব রমজান কাকুর উপরেই পড়ে, আর তাই তিনি এবার এই দায়িত্ব এড়ানোর জন্য আলাদা কুরবানি দিচ্ছেন, তিনি নিজের গরু নিয়ে থাকবেন আর অন্যদের গরু কি হল তা আর তার দেখা লাগবে না!
যা হোক, সেবার কোনও রকম মন খারাপ করেই আল্লাহ্ 'র ভরসায় ভেবলার বাবা তার, রহিম দার আর পিসির গরুটা কিনে আনলেন!
ভেবলার বাবা গরুটিকে বাড়িতে রেখে পশ্চিম গঞ্জে ফিরে গেলেন! রমজান কাকু নিজের গরু নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বিধায় রমজান কাকুর খাশ লোক হেমায়েত আঙ্কেলের উপর দায়িত্ব পড়ল গরু দেখাশোনার! সারাক্ষন ভজ হরি স্টাইলে "সবই পারি" কিংবা "সন্তানের মত গরুটাকে আগলে রখব" ইত্যাদি ডায়লগ মারা হেমায়েত আঙ্কেল এবার আসল চেহারা দেখাতে লাগলেন! সারাদিন গরুটাকে কিচ্ছুটি খেতে দেন নি! পড়ে একটা হাড়িতে গরম ফূটন্ত ভাতের মাড় এনে গরুটির মুখের সামনে এনে দিলে বেচারা অভুক্ত গরুটা খিদার ঠেলায় সেটাতেই মুখ ডুবিয়ে দিলে এক চুমুক, আর এতেই গরুটার নাক-মুখ-জিহ্বা -গলা অবধি পূড়ে গেল!
সেদিন সকাল থেকে হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছে, আর হেমায়েত আঙ্কেল একটা কাঁদা মাখা যায়গায় গরুটাকে বেধে রাখলেন সারা রাতের বৃষ্টি আর কাঁদায় গরুটার জ্বর আর পেট খারাপ হয়ে গেল! আর তার উপর জিহ্বা আর গলায় গরম ভাতের মাড়ের যন্ত্রনায় পরেরদিন ও গরুটা কিচ্ছুটি খেতে পারল না!
তিন দিন পর ঈদ, এই তিন দিন কোনরকম পার হলো হেমায়েত আঙ্কেলের অবহেলায়, রমজান কাকু একটু পর পর ফোন করে ভেবলার বাবাকে, আর বলে "গরুটা এসে দেখতে পারেন না, এটা হয়েছে, ওটা হয়েছে," ইত্যাদি ইত্যাদি! ভেবলার বাবা সেবার খুব অসুস্থ ছিল, তাই ভেবলাও বলছিল এবার ঈদে পূর্ব পাড়ায় না গিয়ে বিশ্রামে থাকতে! তাই ভেবলার বাবা কে কোনও রকম না পেরেই রমজান কাকু আর হেমায়েত আঙ্কেলের উপর ডিপেন্ড করে থাকতে হল, আবার পিসির রিক্যুয়েস্ট, রমজান কাকু সবার থেকে আলাদা হয়ে কুরবানি দিচ্ছে তাই ভেবলার বাবাকে বাধ্য হয়েই থাকতে হবে, আবার অসুস্থতার করনে ওখানে থেকেও গরুটার দেখাশুনা করতে পারছে না!
ঈদের দিন, রমজান কাকুর গরুটা চকচক করছে, আর ভেবলার বাবা আর পিসির গরুটা চেনাই যাচ্ছেনা, হেমায়েত আঙ্কেলের বিশেষ যত্নে মরমর অবস্থা আর রঙ ফেকাশে হয়ে গেছে!
... চলবে ...
-Dr.Aakash
No comments:
Post a Comment